শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

মোঃ বি ন য় আ মি ন

  • ফটকা বন্ধু দ্য গ্রেট
  • ২০২৪-০৪-০১ ২১:২৫:৪৬

দুই বন্ধু গ্রামের রাস্তা দিয়েই আসছিল । রাসেল দেখতে পায় হালিমের হাতে বেশ কয়েক হালি কলা । এবার হালিমের কাছে দ্রুত চলে আসে ।
রাসেল - কি খবর দোস্ত ? কোথায় যাও ?
হালিম - কোথায় যাই আবার , যাচ্ছি অসুস্থ্য খালাকে দেখতে ।
রাসেল - ও , তা তো যেতেই হবে খালা যখন অসুস্থ্য । তা তোমার হাতে কি ? ও কলা । খাইনা অনেকদিন ।
হালিম - কলাও চেন না । কলা পাই না । বিশটা পেয়েছি । যাইরে ।
কিন্তু রাসেল সাথে সাথে আসতে থাকে ।
রাসেল - দোস্ত , একটা কলা দেও না , অনেকদিন কলা খাই না । দেও না একটা ।
হালিম দাঁড়িয়ে যায় । অবাক চোখে চেয়ে থাকে ।
হালিম - কি বল দোস্ত ? বললাম না খালার জন্য নিয়ে যাচ্ছি । আচ্ছা এই দুই টাকা নেও । বাজার থেকে কিনা খেয়ো ।
রাসেল - কি দোস্ত , তুমি আমকে ফকির ভেবেছ  ? দুই টাকা সাধছ , তুমি কি মনে কর আমার কাছে টাকা নেই ?
হালিম - তাহলে আমার কাছে কলা চাচ্ছ কেন ? বাজার থেকে কিনে খাও ।
রাসেল - তাতো কিনে খেতেই পারি --- যাক , দোস্ত একটা কলা দেও না । এতো কথার ত দরকার ছিল না । একটা কলা দিলে এতক্ষণে খাওয়া হয়ে যেত । তুমি তো বিদেশ যাবার আগে এমন ছিলে না ।
এতো কথার পর হালিম বিশটি কলা থেকে একটি কলা ছিঁড়ে দেয় । কলা খেতে খেতে রাসেলে হালিমের সাথে যেতে থাকে । আর কলা খেতে খেতে এটা সেটা বলতে থাকে ।
রাসেল - তোমার কলা ত হেভি মজা । একট খেয়ে পুষাল না ভাই , আরেকটা দেও না , প্লিজ ।
হালিম আর কি করে আরেকটা দিল । সেটা খেতে খেতে হালিমের সাথে সাথে আসতে থাকে । এবার কি মনে করে বলে ।
রাসেল - দোস্ত , আমার ছেলের কথা মনে আছে ?
হালিম - ঠিক মনে নেই , ত তোমার ছেলে কোন ক্লাসে পড়ে ?
রাসেল - ক্লাস সেভেনে পড়ে , বার বছর বয়স ।
হালিম - বল কি ? এতো বড় ছেলে তোমার ?
রাসেল - বিয়ের কাজটি অল্প বয়সে সেরেছি বলে বাচ্চা বড় হয়ে গেছে । ভাই তোমার ভাতিজাকে দুইটি কলা দেবে না । ছেলেকে রেখে একা একা খেয়েছি ত মনটা খারাপ লাগছে ।
কি আর কলা হালিম দুইটি কলা ছিঁড়ে দেয় । এখনও রাসেল হালিমের সাথেই আসছে ।
রাসেল - দোস্ত , তোমার ভাতিজা কলা খেলে তোমার ভাতিজি রামিসা নাম , চেয়ে চেয়ে দেখবে ভাই কলা খাচ্ছে । তখন সে মনে কষ্ট পাবে না । তোমার ভাতজিকেও দুটি কলা দেও না ।
হালিম এবার রেগে বলে - এই ব্যাটা তুই কি পেয়েছিস ? তোর ঘর গুষ্ঠিকে আমার কলা খাওয়াতে হবে ?
রাসেল - দোস্ত , তুমি আমার বাল্যকালের বন্ধু , তুমি এই কথা বলছে পারলে ?
হালিম - আচ্ছা নেও , একটা কলা । বলে কলা ছিঁড়ে দেয় ।
রাসেল - ভাই দুটি কলা খাবে , তাকে একটি কলা দিলে সে মন খারাপ করে থাকবে । দেও দেও আরেকটি কলা ।
কি আর করা । হালিম দুটি কলাই দেয় । এবার সে দ্রুত এগুতে থাকে । বিশটি কলা থেকে রাসেল ছয়টি কলা নিয়ে গেছে । মেজাজ খারাপ হচ্ছে ।
রাসেল - আমার মা ---
হালিম - তোর মা ? কি হয়েছে ? অসুস্থ্য ?
রাসেল - না না না , মা সুস্থ্য আছে  । মা কলা খেতে খুবি ভালবাসে । নাতিরা কলা খাচ্ছে । এটা দেখলে তারও মন খারাপ হবে না ?
হালিম - তাত হবেই , তোমাকে যা দিয়েছি তার থেকে এটা দিয়ে দিও । তুমি ত ফকির না । বাজার থেকে মায়ের জন্য এক কাঁদি কলা কিনে নিয়ে যাও ।
রাসেল - দোস্ত তুমি এইটা কি বললে ? তোমার কাছে এতো কলা , সেখান থেকে দুইটা কলা মাকে দিলে কি হয় ?
হালিম - ওরে আমার আল্লারে এ আমি কার পাল্লায় পড়লাম ? আচ্ছা নেও । আর না এবার কেটে পড় ।
রাসেল কি কেটে পড়ার মানুষ ? সে হালিমের পিছন পিছন আসতেই থাকে ।
রাসেল - দোস্ত তুমি কি আবার বিদেশ যাবা ?
হালিম মহা বিরুক্তি নিয়ে -- তোমার কি দরকার ?
সে দেখল এখন রাসেল তার সাথে সাথেই আসছে ।
হালিম বলে -- তুমি এখনও আমার পিছনে পিছনে আসছ কেন ? 
রাসেল - দোস্ত তুমি এইটা কি বললে ? তুমি সামার ছোটবেলার বন্ধু না ? আমি খবর নিব না ত কে নেবে ?
হালিম - ঠিক নেই , যাব কি যাব না । তুমি ভাগো , আমার পিছন পিছন আসবে  ?
রাসেল - কোথায় পিছন পিছন আসছি ? সাথে সাথেই আসছি । দোস্ত , তুমি ত জ্ঞানি মানুষ । আমার মা যখন কলা খাবে , তোমার ভাবী ত চেয়ে চেয়ে দেখবে । আমি তার জন্য কলা আনিনি তাতে সে রেগে যাবে ---
হালিম - তো আমি কি করব , বাজার থেকে কিনে দাও বউকে ।
রাসেল - দোস্ত , বাজার তো অনেক দূরে ! তুমি মনে কলা কেনার টাকা নেই আমার কাছে ? তোমার কাছে কলা থাকতে বাজারে যাব কেন ? দোস্ত তোমার ভাবিকে দুইটা কলা দেও না ।
হালিম দেখল এ ত খুব ত্যাড়া । দুইটা কলা দিয়ে দিল । নিজের কাছে  অবশিষ্ট কলার দিকে চেয়ে থাকে । দেখে তার কাছে দশটি কলা আছে । মেজাজ ক্রমশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে ।
রাসেল - দোস্ত , তুমি ত জান না আমার বাসায় এখন আমার দুই শালা আর এক শালি আছে । ওরা চেয়ে দেখবে সবাই কলা খাচ্ছে আরামসে । তখন আমাকে কি ভাব্বে ?
হালিম - তোমার শালি শালিকে কলা খাওয়ানর দায়িত্ব কি আমার ?
রাসেল - বন্ধু এইটা তুমি কি বল্লা ? আমার শালি শালি ত  তোমারও বেয়াই বেয়াইন । ওদের কলা খাওয়ালে তোমার প্রশংসা করবে । আমিও গর্ব করে বলব আমার দোস্ত তোমাদেরকে কলা দিয়েছে । দিয়ে দাও । তুমি না হয় বাজার থেকে আবার কিনে নিও । তোমার বাসায় যাবার পথেই ত বাজার পড়ে , তাই না দোস্ত ?
হালিম - হায় রে , রাসেল তুই ছোটবেলায় আমাকে যন্ত্রণা দিতি , এই বয়সেও তাই করছিস । কোন অলক্ষুণে তোর সাথে দেখা হয়ে গেল । ও আমার আল্লাহ্‌ গো । আমি কই যাই ? যা সব নিয়ে যা । আজকে আর খালাকে দেখতে যাওয়া হবে না । বলে রাসেলের হাতে অবশিষ্ট কলাগুলি ফিয়ে দেয় ।
রাসেল কলাগুলি নিতে নিতে বলে - দোস্ত তুমি আসলেই ভাল ছেলে । তোমাকে অনেক ধন্যবাদ । বিরাট লজ্জার হাত থেকে তুমি আমাকে বাচালে । আচ্ছা যাই ? আল্লাহ্‌ হাফেজ । বিকালে মাঠে দেখা হবে । দুজনে মিলে চা নাস্তা খাব ।
বলে ঘুর পথে রাসেল চলে যায় । হালিম মহা বিরুক্তি নিয়ে রাসেলের গমন পথের দিকে চেয়ে থাকে ।

 


এ জাতীয় আরো খবর