শুক্রবার, মে ৩১, ২০২৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিতে আমগুটির উপকার

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৩-২১ ২১:১২:০৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
আমের রাজ্য খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত মৌসুমে প্রায় শতভাগ আমগাছে মুকুল আসার পর চলতি মৌসুমে ৭৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। কৃষি বিভাগ এমন দাবী করলেও কৃষকরা বলছেন এ বছর মুকুল এসেছে আরও কম গাছে। মুকুলের ঘনত্বও বেশ কম। এরপরও কৃষি বিভাগ গত বছর ৩৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬২৫ টন উৎপাদন প্রাক্কলণ করলেও এবার করেছে প্রায়  ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে ৭৫ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮২৫টি আমগাছে হেক্টও প্রতি প্রায় ১২ টন হিসাবে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টন। অবশ্য জেলায় প্রতিবছরই চেম্বার,কৃষি এসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আম উৎপাদনের পরিমান কৃষি বিভাগের তুলনায় বেশি হিসাব করে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) ভোররাত থেকে গত বুধবার(২০ মার্চ) প্রায় দিনব্যাপী হালকা,মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। কখনও টানা আবর কখনও থেমে থেমে টিপটিপ,কখনও মুষলধারে আবার কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে জেলাব্যাপী। কৃষি সম্প্রসারণ সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র ও কৃষকরা চৈত্র্যর প্রথম সপ্তাহের এই বৃষ্টিকে আমগুটির জন্য মঙ্গলকর বলে মনে করছেন। গুটির জন্য এ বৃষ্টি অনেকটা স্প্রে’র মতই কার্যকরী। গাছে সময়মত একটি পূর্ণাঙ্গ সেচের কাজও হয়ে গেছে। তবে এ মৌসুমে শীত দীর্ঘায়িত ও আমগাছে মুকুল বেশ দেরিতে আসায়  ও  প্রস্ফুটিত হতে দেরি হওয়ায় বৃষ্টিতে কিছু প্রস্ফুটিত মুকুলের ক্ষতি হতে পারে। আবার বৃহস্পতিবার(২১ মার্চ) সকালে রোদ উঠলেও দুপুর থেকে আবার মেঘলা হয়েছে আকাশ।  বৃষ্টির পর মেঘলা আবহাওয়ায় কীট ও ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে। আবার রৌদ্রজ্জল আবহাওয়ায় কীট ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা সবেচেয়ে কার্য়কর।
মঙ্গলবার(৫ চৈত্র) সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ১৫ মি.মি ও বুধবার(৬চৈত্র) বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ২৯ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে দু’দিনে সদর উপজেলায় ৬০মি.মি,শিবগঞ্জে ৪৮ মি.মি,গোমস্তাপুরে ৪০ মি.মি, নাচোল ১২ মি.মি  ও ভোলাহাট উপজেলায় ৬০ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
কষি বিভাগের মতে, ্এই বৃষ্টি শুধু আমগুটি নয় প্রায় সকল ফসলের জন্যই উপকার। তবে জেলার প্রায় ২৬ হাজার ৯৫৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা গমের জন্য বৃষ্টি বিড়ম্বণা ডেকে এনেছে। গম কাটতে ও মাড়াই করতে দেরি হবে।  গমের রং নষ্ট হবে। কৃষকদের দাবি, গমে কিছু ফলন বিপর্য়য়ও  হতে পারে। গম উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪ টন করে। অর্থাৎ  প্রায় সোয়া লক্ষ টন। তবে কাটা শেষেই বলা যাবে প্রকৃত উৎপাদন। বোরো রোপণ শেষ। জেলাব্যাপী আবাদ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে। বৃষ্টিতে সবথেকে বেশী উপকার হবে এই ধানের। এছাড়া মাঠে রয়েছে মসুর.বুট,ধনিয়া জাতীয় ফসল( চৈত্রালী ফসল নামে পরিচিত)।
জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক পলাশ সরকার বলেন, এবার আমের ‘অফ ইয়ার’ (ধারাবাহিকভাবে এক বছর আমের ফলন ভাল হয় ও পরের বছর একটু কম হয়। বেশি হওয়া বছরকে অন ও কম হওয়া বছরকে অফ ইয়ার বলা হয়)। তাই ফলন কিছু কম হতে পারে। মুকুলও কম হয়েছে। তবে  সে ক্ষেত্রে আম নষ্ট হবে কম। কৃষকরা মূল্য বেশী পাবে। বৃষ্টি কোন ফসলের জন্য লাভজনক না হলেও  অন্তত: ক্ষতিকর হবে না দাবী করে জেলার শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তা বলেন,মাঠ পর্যায় থেকে সকল রিপোর্ট বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। কৃষি আবহাওয়া দপ্তরের আবারও ঝড়,বৃষ্টির কোন আগাম সতর্কতা এখনও পাওয়া যায় নি। আমগুটি মটরদানার আকৃতির হলে একটি স্প্রে করা যেতে পারে। আম উৎপাদনের সাথে বাগান ব্যবস্থাপনার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন চাসীরা সতর্ক। অনেকের বাগান ব্যবস্থাপনা ভাল। তাদের উৎপাদনও ভাল হবে। এবার বয়স্ক গাছে মুকুল কম এসেছে বলেও তিনি জানান।
জেলা কৃষি এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, এবার বেশ দেরিতে ( স্থানীয় ভাষায় নামলা) আমের মুকুল এসেছে। তবে বৃষ্টিতে আমগুটির তেমন ক্ষতি হবে না। দেরিতে আসা মুকুলের ১০ শতাংশ নষ্ট হতে পারে। তিনি স্প্রে ও সেচের অস্বাভাবিক  খরচের  ব্যাপারে সংম্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিশেষ করে বালাইনাশকের দাম কৃষি ফসল উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া(৬০) বলেন,বৃষ্টিতে আমের উপকার হবে। গাছ ধুয়ে পরিস্কার হয়েছে। বৃষ্টির পর কড়া রোদ উঠলে ভাল হত। এখন আম গাছের পরিচর্যা অব্যহত রাখতে হবে। 


 


এ জাতীয় আরো খবর