বেলা শেষে ঘনিয়ে এলো সন্ধ্যা
প্রদীপ জ্বেলে ঘরের কোণে প্রার্থনারত তুলে দুটি হাত,
মনে মনে যা বলার বলেছে বিধাতার কাছে
করেছে করুণ নিবেদন ।
কী-ইবা আর বলার আছে !
কী-ইবা আছে চাওয়া-পাওয়ার আকুতি।
মেঘহীন আকাশ এখন নক্ষত্রের দখলে
রাত গভীর হলে আকাশ জুড়ে করে হাসাহাসি।
শীতের ছায়া ছায়া কুয়াশা ছড়িয়ে চারিদিকে,
নদী ঘুমিয়ে আছে, পাহাড় নীরব,
ধান কাটা মাঠ জুড়ে খড়কুটো।
রবিশস্য শিশিরে মাখামাখি,
মাঝে মাঝে শীতের তীব্রতায় শুনি শেয়ালের হাঁক।
আর নিদ্রাহীন চোখে তার ধলেশ্বরীর উত্তাল ঢেউ,
মাছধরা টলার, হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ---- তারপর
সব শেষ ধলেশ্বরী কেড়ে নিল শাঁখা-পলা,
সিঁথির সিঁদুর, ঝলমলে বেশবাস, নিকানো উঠোন
এখন স্মৃতিটুকু তার আঁচলে বাঁধা থাকে একাকিত্বের সাথী হয়ে,
নির্জনে রাতের আঁধারে গিঁট খুলে দেখে
আর ভিজিয়ে রাখে চোখের জলে।
কখনো কখনো মনের আঙিনায় ছবি আঁকে
এক ঝাঁক রূপালী ইলিশ, হাস্যোজ্বল সেই মুখ,
কার্তিকের জোছনা গায়ে মেখে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া
এইসব ---- আরো কত কী ?
সবই আজ নিমজ্জিত ধলেশ্বরীর অতলে।