আর কী কারো কষ্ট আছে ঠিক আমার মতো
নাকি সব কষ্ট একই রকম সবার কাছে !
থাকতো যদি কষ্ট নামের একটা পাখি--
আমি তার ডানায় ভর করে উড়ে বেড়াতাম সারা আকাশ।
আমার কষ্টগুলো ছড়িয়ে দিতাম নক্ষত্রপুঞ্জে।
এমন বেগে ছুড়ে দিতাম যে মিল্কিওয়ে পার হয়ে যেত।
আমার কাছে আর ফিরে আসতে পারতো না।
না থাক, আমার কষ্টগুলো পাখির মতোন
সযত্নে পুষে রাখি মনের খাঁচায়।
প্রিয় কষ্টগুলো আমাকে লেখায় কবিতা
আর তা কখনোবা গান হয়ে যায়।
লোকে আমাকে পাগল বলে বলুক আমি কিন্তু কষ্ট পেলে হাসি।
বেলাভূমি ঘুরে ঘুরে আমি ঝিনুকের মতোন কষ্ট কুড়াই।
আর কষ্টের মুক্তোদানা বের করে গালায় পরি।
পৃথিবীরও কষ্ট আছে---
নক্ষত্রে নক্ষত্রে কত কষ্ট
তোমরা কী দেখোনি পৃথিবীর কষ্টগুলো ভোরের শিশির হয়ে ঝরে।
কষ্টে নদীগুলো কেঁদে কেঁদে সাগরে লীন হয়
বনের বৃক্ষরাজি থেকে কষ্টের পাতাগুলো শুকিয়ে ঝরে পড়ে।
দিন ফুরিয়ে যাওয়ার কষ্টে বিকেলগুলো
গোধূলির আবির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
কষ্ট কি ছোঁয়া যায় ?
ইচ্ছে হয় মানুষের কষ্টগুলো ছুঁয়ে দেখি বারবার।
পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিই।
কষ্ট পাওয়া মানুষগুলোকে আমি সুখের উল্লাসে গান গাইতে বলি।
সব কষ্ট বিলিয়ে দিতে রাজি আছি
শুধু নূপুরের দেয়া কষ্টগুলোর ভাগ আমি আর কাউকে দেবো না।
এগুলো হেলাল হাফিজের কবিতার মতোন
লাল-নীল আলো ছড়াতে থাকুক একান্ত নিজস্ব ভুবনে।