রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

মো শা হে দ চৌ ধু রী

  • মানচিত্রের সমান বড়ো
  • ২০২৩-১২-১৬ ২০:৫২:১৪

যে হাতে অস্ত্র ধরেছিলি সে হাতে এখন লাঠি।  
জানি এ' লাঠি সাতই মার্চের লাঠি নয়, এ' লাঠি লড়াই করে না। 
শুধু তৃতীয় পা হিসাবে জরাজীর্ণ জীবনটাকে বয়ে নিয়ে চলে।
একি ! তোর হাত কাঁপছে কেন ?
চোখ দু'টো বড়ো বড়ো করে কী দেখছিস ?
তোর সেই স্বপ্ন ? 
তোর স্বপ্নমাখা সোনার বাংলা ?
শেখ মুজিবের ভাষণ দেয়ার সেই মাঠ ?
গুলি লেগে তোর পা ছিন্ন হওয়ার সেই ভয়াবহ ক্ষণ ?

সেই কৈশোরে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য কী পাগলামিটাই না করেছিলি সেদিন। 
কার টানে এমন করেছিলি ?
কাউকে কিছু না বলে এমন করে পালিয়ে গেলি কেন ?
অবশ্য তোর জন্য গোপনে গোপনে কাঁদতেন একজন। 
তিনি ছিলেন বীরমাতা,
আমাকে কাছে ডেকে নিতেন তোকে না পাওয়ার দুঃখ ভোলার জন্য। 
নিজেকে তখন খুব অপরাধী মনে হতো,
তুই যা পেরেছিলি আমি তা করতে পারিনি বলে।

তুই যখন গ্রামে ফিরে এসেছিলি --- 
মনে পড়ে,আমরা তোকে কাঁধে করে সারা গ্রাম ঘুরেছিলাম।
অথচ আজ তোকে চেনার মানুষ নেই,
কোথাও মাথা নত করিসনি বলে স্বপ্নের দেশে এত কষ্টে মৃত্যুর প্রহর গুনছিস ! 

সেদিন যখন বললি গুলিটা পায়ে না লেগে
বুকে লাগলেই ভালো হতো, এতকিছু আর দেখতে হতো না। 
তোর কথার কোনো জবাব না দিয়ে নিশ্চুপ ছিলাম। 

শুনলাম, তোর কাছে নাকি মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেই ? 
কোনো সুবিধাও কখনো ভোগ করিসনি মুক্তিযোদ্ধার।
কোনো জনসভায় তোকে দেখিনি কোনোদিন,
কেন নিজেকে আড়ালে রাখলি এমন করে,
এত নীরব কেন থাকিস তুই ? 

ফ্যালফ্যাল করে কি দেখছিস, আমাকে ? 
আমি তো আর তুই নই, আমি তোর কাছে খুব বেমানান একজন।
তুই মানচিত্রের সমান, তুই মুক্তিযুদ্ধের সমান,
তুই শেখ মুজিবের ভাষণের মতো শানিত মারণাস্ত্র 
তুই আমার চোখে দেখা এ' যুগের বীরশ্রেষ্ঠ।


এ জাতীয় আরো খবর