সমাজের অবক্ষয় দেখতে দেখতে আর অবাক হই না,
খবরের শিরোনাম দেখেও কষ্ট পাই না ---
খুন,রাহাজানি, ধর্ষণ, লুটপাট এতো নিত্য দিনের ঘটনা।
কিন্তু সেদিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
জানালার পাশেই বসে আসছি,চোখ জোড়া বরাবরের মতো বাইরে,
সহসা কানে এলো " কিছু দিয়ে যান এতিম ছেলেটার জন্য,
ওর বাবা নেই "।
কেউ দিল কেউ বা মুখ ঘুরিয়ে নিল,
কণ্ঠটা খুব পরিচিত মনে হতে মুখ বাড়িয়ে দিলাম।
আমাকে দেখামাত্র দ্রুত রাস্তা পার হতে গেল,
থামিয়ে দিয়ে ইশারায় ডাকলাম,
মাথা নিচু করে এগিয়ে এলো।
বললাম, তানিয়া না ?
হুঁ বলতেই বললাম, কী রে এখানে কেন, খালি পা, ছেলে ?
আস্তে বললাম কবে বিয়ে হলো !
এইতো।
ওর বাবা কি করে ?
মারা গেছে ।
পালাতে চেষ্টা করছিল, বললাম দাঁড়া---
বিশ টাকার নোটটা হাতে পেতেই পা বাড়াল।
বাস ছেড়ে দিল, খেয়াল করলাম, সে বাসে উঠলো না।
কোথায় যাবে কোন আস্তানায় ?
মাথার ভেতর প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো ---
এইতো সেদিন ওর মা সাহায্য চাইতে এসে বলল,
আপা,তানিয়ার বিয়ে দিতে পারিনি
বাপতো গাঁজা খেয়ে পড়ে থাকে, কী করবো আপা !
কী করে বিশ্বাস করি
সেই তানিয়ার কোলে বছর দুয়েকের ছেলে,
তার স্বামী মারা গেছে ।
ছিঃ লজ্জা, ঘৃণায় দম বন্ধ হয়ে আসছে।
পাশ থেকে ও বলল - চেনো মেয়েটাকে ?
ইশারায় চুপ করতে বললাম ।
বিশ্বাস করতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল এতটুকু মেয়ের এমন আচরণ,
সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যাকে সত্যের কাঁটায় দাঁড় করানো -- কী নিপুণ অভিনয় !
পৌঁছে গেছি গন্তব্যে, নামার তাড়ায় ব্যস্ত হয়ে উঠলাম।