রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

মুজিব: একটি জাতির রূপকার

  • খ ম হারূন
  • ২০২৩-১০-২৬ ২২:৩২:২৬

মুজিব: একটি জাতির রূপকার 
একটি শ্যাম বেনেগাল চলচ্চিত্র 
বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রযোজনা ২০২৩ 
চলচ্চিত্রটি নিয়ে অনেক আলোচনা, তর্ক ও বিতর্ক ছিলো। যখন শ্যাম বেনেগাল এর বয়স ৮৫ তখন তিনি এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ শুরু করেন। চার বছর পর যখন তিনি ৮৯ তখন “মুজিব” ছবিটি মুক্তি পায়। এতো বযসে এরকম আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র পৃথিবীর আর কোনো পরিচালক নির্মাণ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। সম্ভবতঃ না। 
শ্যাম বেনেগাল ২০০৬ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ভারতীয পার্লামেন্টের (রাজ্যসভা) সদস্য ছিলেন। বযসের কারনে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহন করলেও চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে তিনি দূরে সরে যাননি। তাইতো “মুজিব” নামের একটি অসাধারন ছবি আমরা পেয়েছি তার কাছ থেকে। 
১৯৬৬ থেকে ১৯৭৩ তিনি ভারতের ফিল্ম এ্যন্ড টিভি ইনস্টিটিউটে (এফটিআইআই) অধ্যাপনা করেন। ন্যাশানাল স্কুল অব ড্রামা’তে (এনএসডি) ছিলেন খন্ডকালীন অধ্যাপক। ১৯৭৩ থেকে  এফটিআইআই ও এনএসডি’র ছাত্রদের সাথে নিয়ে নির্মান করেন একটির পর একটি চলচ্চিত্র। অঙ্কুর (১৯৭৩), নিশান্ত (১৯৭৫), মন্থন (১৯৭৬) এবং ভূমিকা (১৯৭৭) - শ্যাম বেনেগাল নির্মিত এই চারটি চলচ্চিত্র তাকে বিশ্বে নিউ ওয়েভ ফিল্ম ম্যুভমেন্টের প্রধান স্থপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেয়। তার হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করেছেন শাবানা আজমী, নাসিরুদ্দিন শাহ্, স্মিতা পাতিল, ওম পুরী সহ অসংখ্য অভিনয় শিল্পী। একইভাবে “মুজিব” ছবিতে যারা অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে আরিফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, তৌকির আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফজলুর রহমান বাবু, রিয়াজ, শহিদুল আলম সাচ্চু - এদের সকলেই তাদের সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন। “মুজিব” চলচ্চিত্রের মিউজিক মনকে উদাস করে দেয়। সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র অসাধারন কাজ করেছেন। চিত্রধারনসহ, লাইট ও কসটিউমেও আছে আন্তর্জাতিক মান। সেট যথেষ্ট উন্নতমানের কিন্তু আমার চোখে কিছু অসঙ্গতি ধরা পরেছে। 
যে সব মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানব জাতিকে নতুন আলোর পথ দেখিয়েছেন, নতুন যুগের সূচনা করেছেন সে সব মানুষকে নিয়ে অনেক চলচ্চিত্র তৈরী হয়েছে। নেহেরু, সুভাষ বসু, সত্যজিৎ রায় - এর উপর তার নির্মিত জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র এক নতুন মাত্রা পায়। তারপর বযসের এই সোনালী পর্বে এসে শ্যাম বেনেগাল নির্মাণ করলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। তার প্রতিটি চলচ্চিত্রের নামে একটা শক্তি আছে, সরলতা আছে, নির্মাণ কৌশলে ভিন্নতা আছে। “মুজিব” তেমনি একটি চলচ্চিত্র, একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাসের সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র॥

 


এ জাতীয় আরো খবর