শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই আরও কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০১-১১ ২৩:০৬:৪৪

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে অস্ট্রেলিয়া। নথিপত্রের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ এশিয়ার এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডট এইউ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এসব দেশের অবস্থান আগের ‘এভিডেন্স লেভেল-২’ থেকে নামিয়ে ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’-এ উন্নীত করা হয়েছে। ফলে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরও কড়াকড়ি যাচাই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক (SSVF) অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনকারীদের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার, অবৈধভাবে অবস্থানের প্রবণতা, ভিসা বাতিল, আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা এবং জাল নথি ব্যবহারের রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব সূচকে অবনতি ঘটায় দক্ষিণ এশিয়ার এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এভিডেন্স লেভেল–৩’-এ থাকা দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও যাচাইকৃত নথিপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে অন্তত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থের উৎসের বিস্তারিত তথ্য এবং সত্যায়িত শিক্ষাগত সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৮ জানুয়ারি এই চার দেশের এভিডেন্স লেভেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, নথিপত্র সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং মানসম্মত শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া আগের মতোই সুযোগ বজায় রাখতে চায়।
ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আকস্মিক নথি যাচাই, স্পট চেক এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে দেখার হারও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের শেষ ভাগে ভিসা আবেদনের চাপে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি ও জাল শিক্ষাগত সনদ শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে পুলিশের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভুয়া স্নাতক সনদ উদ্ধারের ঘটনাটি নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের সাম্প্রতিক ভারত সফর এবং সেখানকার স্বরাষ্ট্র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কী-ওয়ার্ডস:অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা,দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থী,এভিডেন্স লেভেল–৩


এ জাতীয় আরো খবর