দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন সবাই জানেন যে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এই সাধারণ পানীয়কে আরও শক্তিশালী স্বাস্থ্যসম্মত রূপ দেওয়া যায় মাত্র এক চিমটি হলুদ যোগ করলেই। প্রাচীন আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যা-হলুদমিশ্রিত দুধকে বরাবরই রোগ প্রতিরোধে প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনে সর্দি-কাশি, সংক্রমণ, ঘুমের সমস্যা থেকে শুরু করে প্রদাহজনিত ব্যথা-সব ক্ষেত্রেই এক গ্লাস গরম হলুদদুধ কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
হলুদে রয়েছে শক্তিশালী যৌগ কারকিউমিন, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে দারুণ সহায়ক। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয়, কমায় সংক্রমণের ঝুঁকি। নিয়মিত হলুদ-দুধ পান করলে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদ্রোগসহ প্রদাহজনিত নানা সমস্যা কমতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন মস্তিষ্কে ‘বিডিএনএফ’ নামক এক রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। শীতকালে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়া সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে গরম হলুদদুধ দ্রুত আরাম দেয়। শিশু ও বড়দের জন্যই এই পানীয় কার্যকর।
ত্বকেও রয়েছে হলুদ-দুধের বিশেষ প্রভাব-এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে বয়সের ছাপ কমায় এবং ত্বকে আনে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। ঘুমের সমস্যা বা ইনসমনিয়ায় ভুগছেন? রাতে এক গ্লাস হলুদদুধ প্রাকৃতিক সেডেটিভের মতো কাজ করে আরামদায়ক ঘুম এনে দেয়।
কোনো আঘাত বা শরীরের ভেতর প্রদাহ থাকলেও হলুদ-দুধ দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে, কারণ এর অ্যান্টিসেপটিক গুণ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়।
যেভাবে তৈরি করবেন হলুদ-মেশানো দুধ
উপকরণ:
কাঁচা হলুদ ১ ইঞ্চি টুকরা
দুধ ২২০ মিলি
মধু বা চিনি স্বাদমতো
গোলমরিচ গুঁড়া এক চিমটি
প্রস্তুত প্রণালী:
একটি পাত্রে দুধের সঙ্গে কুঁচানো হলুদ ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর ছেঁকে মধু বা চিনি মিশিয়ে নিন। শেষে অল্প গোলমরিচ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে কাঁচা হলুদের বদলে হলুদ গুঁড়াও ব্যবহার করা যায়।
কীওয়ার্ডসঃ
হলুদদুধ
স্বাস্থ্যগুণ
রোগপ্রতিরোধ