ছোটোবেলায় আমাদের মাকে দেখে অন্ধ মনে হতো
আমাদের কোনো দোষ তার চোখে পড়তো না
নাড়ার আগুনে ভাত রাঁধতে রাঁধতে আপন মনে গান গাইতো
আমরা গোগ্রাসে সেই ভাত গিলতাম
মা তখন নিজের পেটের আগুন চাপা দিয়ে হাসতো।
বৃষ্টি পড়লে বন জঙ্গলের ঝরা ফল আমাদের ঘুম কেড়ে নিতো
বেরিয়ে পড়তাম বিপদ মাথায় করে
দুপুর বেলার ক্লান্ত ভাতঘুম ভেঙে হাতড়াতে হাতড়াতে মা-ও পৌঁছে যেত আমাদের কাছাকাছি
চোখে মুখে চিন্তা মেখে বলতো
অহেতুক প্রাণ খোয়ালে হবে না
পৃথিবীর অক্সিজেনে প্রাণ ভরে বাঁচতে হবে
তাকিয়ে দেখতাম আমাদের মাথার উপর ছাতার মতো কচু পাতা।
তারপর অনেকদিন কেটে গেছে
ও বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়ার সময় অনেক কিছুর সাথে মা একটা শীতলপাটি দিয়েছিলো
দুঃখ পেলে সেটির উপর আঁছড়ে পড়ি
খুশি হলে গড়িয়ে পড়ি
আপন মনে কথা বলি
এখন আমারও নিঝুম দুপুর আসে
শুধু কংক্রিটের ব্যালকনিতে দস্যিপনা করার অবসর আসে না
মাঝে মাঝে বাতাসের সাথে ভেসে আসে কিছু অতীত
গ্রামের সহজ সরল নদীটির পাশে যে বড় বট গাছ ছিলো
তার নিচে বসে হইচই করা
এই তপ্ত দুপুরে সবটুকু রোদ নিজের মাথায় নিয়ে সে দিতে পারে শীতল ছায়া
মাকে মনে পড়লে তাকেও মনে পড়ে
স্মৃতির ক্যানভাসে মা, আমি আর গাছ
মাঝখানে জেগে ওঠে মায়া।