একটি সাজানো গোছানো গল্প শুরু হয়েছিলো
শৈশবের নরম কাঁচা মাটিতে !
বুকের মধ্যে বয়ে যাওয়া ছটফটে তিস্তা
বয়ে এনেছিল দেশ বিদেশের পলি মাটি।
কাঁচা সোনা মন মাটিতে ফুটেছিল
অনেক নাম না জানা রক্তিম ফুল,
গল্পগুলো তখন আন্তর্জাতিক।
তারপর কৈশোর পেরিয়ে গল্পের জাহাজটি
বেনামী বন্দরে নোঙর ফেললো।
যৌবনের স্পর্ধায় ভুলে গেছিলাম
তিস্তা আমার কাছ থেকে একটু একটু করে
সরে যাচ্ছে !
সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র, গ্যাসচেম্বার,ভুখা মানুষের ঐক্যতান,
এখন নিরবিচ্ছিন্ন ফ্ল্যাশব্যাক অথবা
স্বপ্নে আসা দুঃস্বপ্ন।
এনকাউন্টারের স্বপ্ন দেখার রোমাঞ্চ
ফুরিয়ে যাওয়ার পরই
গল্পের চরিত্রগুলো এবং মুখ্য ভূমিকায় আমি
গল্পের অভিমুখ বদলে ফেললাম।
তিস্তা সরে যায়নি,
আমার গল্পগুলো আন্তর্জাতিক থেকে জাতীয়
তারপর সামাজিক, অবশেষে পারিবারিক একঘেয়ে দিবা রাত্রির কাব্য হয়ে,
আমাকেই ছুঁড়ে দিয়েছে আবর্জনায় !
তবু লেলিনের সমাধি ধুয়ে যায়
মস্কোভার জলোচ্ছ্বাসে, ধুয়ে যায় হতাশা, ক্লান্তি আর কলঙ্কিত গৌরবময় ইতিহাস !
আবার ভোর ফোটে,
কল্লোলিত জাগ্রত চেতনায় একটি ভীষণ ভীষণ
চেনা গন্ধ নাকে এসে ঝাপটা দেয়।
চুরুটের গন্ধ !
কুয়াশা আর মেঘের একচ্ছত্র দখলে
বড়ো শীত আজ।
ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত চেতনার ঘরে কড়া নাড়ে,
একটি অস্পষ্ট মৌন সিলুয়েট !
বিমূর্ত অথচ কি ভীষণ শরীরী !
চেগুয়েভারা, এখন !এভাবে ?
শুরুতেই বলেছিলাম, গল্পটা আন্তর্জাতিক।
তাই বলিভিয়ার আন্দোলন মাঝ পথে স্থগিত রেখে
নানকাহুয়াজ জঙ্গল ছেড়ে,
আরো ভয়ানক শ্বাপদ সঙ্কুল এই জঙ্গল নগরীতে
আত্মগোপন করেছে স্বপ্নের নায়ক।
বুকের মধ্যে আবার তিস্তার জলোচ্ছ্বাস।
চুরুটের গন্ধের নিশান ধরে আমি দৌড়াচ্ছি ।
রুটি দাও অনুনয়!
আমার ভবিতব্য আমাকেও নিয়ে গেল ঐ
বিভৎস কোরাসে।
গল্পটা যে আন্তর্জাতিক।