সর্বশেষ সংবাদ শিক্ষায় শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় ভাগ্য পরিবর্তন হয়                 ১০ নভেম্বর শহীদ নুরহোসেন দিবস, কিছু স্মৃতি এবং গনতন্ত্র                 হঠাৎ ট্রাম্প কেনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন                  ক্ষত শুকোতে জো বাইডেনকে উপযুক্ত চিকিৎসক                 অস্ট্রেলিয়া করোনাভাইরাসকে প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে সমর্থ্য হয়েছে                 বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অক্টোবরে আগের মাস থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮২ জন                 'পরশ্রীপুলক'                 রাজনীতি এবং গনতন্ত্র চর্চার অনুপস্থিতি সমাজে অস্থিরতা এবং ভয়ানক অপরাধী তৈরী করে থাকে                 ইউএস ইলেকশন ২০২০। সর্বশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের ফলাফল                 সাংবাদিক খাশেগিকে নিয়ে                  পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর দায়ভার কার?                 'মুজিব বর্ষের শপথ-সড়ক করবো নিরাপদ' আমাদের করণীয়                 মুজিববর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ                 নিজের মতে পথ চলতে নিসচার মানা !                 যদি তুমি উন্নয়নশীল দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাও তাহলে নারীবাদী হও                 আইনের শাসন এবং অবাধ গনতন্ত্র আপনারা ক্ষমতায় না থাকলেও আপনাদেরকে ভবিষ্যতে সুরক্ষা দিবে                 ট্রাম্প করোনাক্রান্ত এবং অসংখ্য প্রশ্ন                 সমাজে গোষ্ঠী-স্বার্থ রক্ষাকারী রাজনীতির পূনরোত্থান বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী লক্ষ্যনীয় যা অযাচিত                 সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাস থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে দিনে গড়ে ৩০ হাজার জন করে                 বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা                 সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা একজন বেঈমান এবং অকৃতজ্ঞ!                 সমাজে ঐ শিশুটি কবে জন্মাবে যে বলবে মন্ত্রী মহোদয় ল্যাংটা ?                 মৌলবাদ ও সমাজতন্ত্র বনাম পুঁজিবাদ ও গনতন্ত্র-আমি যেভাবে দেখি                 করোনাভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুর মিছিলে বিশ্বের প্রথম ২০টি দেশ                  বাংলাদেশে রাজনীতির বর্তমান অবস্থা এবং উত্তরণের পথ                 সামরিক স্বৈরশাসনের সমাপ্তি! অত:পর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তাক্ত গনতন্ত্রের অনুশীলন শুরু!!                 "মাদক ফেলে এসো সবাই হাতে হাত ধরি মানবসেবায় শপথ করে নতুন জীবন গড়ি"                 প্রাণের খুলনা- ভাবনা ও স্বপ্ন                 বিশ্বে করোনা সংক্রমণ কমেতো নাই বরং ক্রমাগত বাড়ছে                 করোনাকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছু ভাবনা                

Thursday, November 26, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


১০ নভেম্বর শহীদ নুরহোসেন দিবস, কিছু স্মৃতি এবং গনতন্ত্র
মোঃ শফিকুল আলম :
সময় : 2020-11-14 12:20:27


শহীদ নুরহোসেন ছিলেন স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের হৃৎপিন্ড। নুরহোসেন ছিলেন স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে একটি অনুপ্রেরনা এবং অনুভূতির নাম। আত্মত্যাগে কতোটা দৃঢ়তা নিয়ে নিজেকে একটি জীবন্ত পোষ্টারে পরিনত করে নির্ঘাত মৃত্যুর মুখে নিজেকে সেদিন সমর্পণ করেছিলেন তার একজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছিলাম আমি।
সেদিন আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ, জিরো পয়েন্ট, জিপিও, গোলাপশাহ মাযার এবং মূলত: আব্দুল গনি রোড অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছিলাম। অপর দিকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল পল্টন, প্রেস ক্লাব পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সচিবালয়ের আব্দুল গনি রোডের সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। নুর হোসেন প্রথম থেকেই বুকেপিঠে স্বৈরাচার নিপাত যাক্ গনতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে নগ্ন শরীরে সিঙ্গলড্ আউট হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ শুরু করলে আমাদের একটি অংশ পুলিশের চাপে ৭ দলের সাথে মিলিয়ে যেতে বাধ্য হই। আমি সেই অংশে ছিলাম। মানুষের স্রোতে এক রকম ভেসে গিয়েছিলাম। পল্টন মোরে বেগম খালেদা জিয়া এবং জাহানারা বেগম পুলিশের গ্যাস নিক্ষেপে আহত হলেন। বিএনপি কর্মীরা তাঁকে দেখলাম দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেলো।
পরে শুনতে পেলাম নুর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নুর হোসেনকে এর আগে চিনতামনা। সেদিন সবার দৃষ্টি ছিলো নূরহোসেনের দিকে। কিন্তু আমরা সবাই তার ভাই আপার (শেখ হাসিনা) ড্রাইভার আলী হোসেনকে চিনতাম। আলী হোসেন, শাজাহান ওরা আমাদের আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলো। পরে জানলাম নুর হোসেন আমাদের আলী হোসেনের ভাই।
১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সচিবালয় অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিলো। আমার প্রস্তাব অনুযায়ী ৮ নভেম্বর ডাকসু ভবনে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিলো। কারন, আমি যাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম এক্সাম এ্যাটেইন্ড করে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটিতে অংশগ্রহন করতে পারি সেজন্যই আমার অনুরোধে সভাটি ডাকসু ভবনে ডাকা হয়েছিলো। ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর ভাই একটি কনফারেন্সে কিউবাতে ছিলেন। 
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিব ভাই (বর্তমানে বেগম জিয়ার উপদেষ্টা) মধুতে এসে খবর দিলেন প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদ গং এই প্রথম রাজপথে প্রকাশ্যে সভা করছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তান ছাত্রলীগ বেঁচে থাকতে সেটা হতে দেয়া যাবেনা। বর্ধিত সভায় অংশগ্রহনের জন্য ঢাকা মহানগরের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সকল থানা এবং কলেজ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১০ নভেম্বরের জন্য রাজনৈতিক প্রস্তুতির সাথে সাথে অন্যান্য প্রস্তুতি তখনও শেষ হয়নি। অপর দিক থেকে খবর পাওয়া গেলো স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশের কর্ডনে অসংখ্য অবৈধ অস্ত্র উঁতিয়ে ফ্রিডম পার্টির কালা লিয়াকত, পাগলা মোস্তফা (পাগলা মিজানের ছোটো ভাই), ফ্রিডম রাসুরা সভাটি পাহারা দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তারা তখনও পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি গ্রহন করেনি। শেষ পর্যন্ত তেজগায়ের জাফর আমাদের উদ্ধার করলো। প্রয়াত তেজগাঁ থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি জরীপও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন করেছিলো এবং বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলো। বিশেষ ভূমিকা পালনকারীদের সবার নাম এই মুহূর্তে  মনে না পড়লেও জগন্নাথ কলেজের নজীবুল্লাহ হীরু, নির্মল গোস্বামী, সূর্যসেন হলের ইউসুফ, জহুরুল হক হলের চুন্নু, রাজা প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক যথাক্রমে প্রয়াত মনিরুজ্জামান বাদল এবং মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, নগর সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক যথাক্রমে কে এম সহিদ উল্লাহ এবং এস এম মান্নান কচি মূলত: বিশেষ টীমকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।মাত্র আটটি জিনিস প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু সকলের মধ্যে যে মিলিটেন্সি কাজ করছিলো তাতে মনে হচ্ছিলো সবাই ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারীদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহন করবে।
আমাদের মধ্যে তখন চরম উত্তেজনা। এই সীমিত সংখ্যক জিনিস ব্যবহার করার জন্য তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করতে বাদল ভাই এবং সহিদ উল্যা ভাই মটর সাইকেলে সভাস্থলটি ঘুরে এসে বললেন সভামন্চটি পাশের বিদেশী সংস্থার লাল ভবনটি (চামেলী হাউজ হিসেবে পরিচিত ছিলো) ঘেঁষে এবং এই ভবনটির ভেতর থেকে আব্দুল গনি রোডে এক্সিট করা যাবে। সুতরাং মূল মিছিল থেকে আটজন ঐ ভবনে ঢুকে যাবে এবং আমরা আহম্মেদ ভাই’র নেতৃত্বে মিছিলকারীরা পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে সভাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও হয়তো যেতে দিবেনা। আটটি শব্দ শেষ হওয়া মাত্র আমরা হাইকোর্টের ঈদগাহ্ ময়দান এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাক করবো এই পরিকল্পনা করা হয়। প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা সেদিন মাত্র ৫ মিনিটের অপারেশনে ফ্রিডম পার্টির প্রকাশ্যে জনসভা করার সখ চিরতরে ভুলিয়ে দিয়েছিলাম। পরিকল্পনানুযায়ী আমরা কোনোরকম ক্যাজুয়ালটি ছাড়া নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরেছিলাম।
৮ নভেম্বরের সফল অপারেশন ১০ নভেম্বরের কর্মসূচী সফল করতে আমাদেরকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো। নুর হেসেন যখন আপার (শেখ হাসিনা) নজরে আসলো তখন ডেকে সাবধান করেছিলেন। বলেছিলেন ‘তুমি কিন্তু পুলিশের টার্গেট হবে।’
নুরহোসেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ বুকে ধারন করলেন এবং ‘গনতন্ত্র মুক্তি পাক’ পিঠে ধারন করলেন। যে নুরহোসেন সিদ্ধান্ত নিয়ে সেদিন রাজপথে নেমেছিলেন সে নুরহোসেনের তো কারও বারন শোনার কথা ছিলোনা। নেশাগ্রস্ত হয়ে এক জন মানুষের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা কি সম্ভব? নুরহোসেন যেকোনো বিবেচনায় ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে সেদিন রাজপথে জীবন বিলিয়ে দিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা শহীদ নুর হেসেনের আত্মত্যাগকে কালিমা লিপ্ত করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাইতো স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা মশিউর রহমান রাঙ্গা বলতে পারেন নুরহোসেন নেশাগ্রস্ত না হলে নাকি এভাবে আত্মত্যাগ করতে পারতেননা। দুর্ভাগ্য গনতন্ত্রের জন্য জীবন দেয়া এই বীর নুরহোসেনদের। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন যাদের নেতৃত্বে হলো তারা আজ সেই স্বৈরাচারকে মহান এই বীরকে অপমানিত করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে।
শাসক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ রক্ষায় গনতন্ত্র হরনকারীদের সাথে শুধু নমোনীয় আচরনই করছেনা বরং ভোটের অধিকারকেও সংকুচিত করেছে। নুরহোসেন দিবসের পরপরই ঢাকা মহানগরীতে অনু্ষ্ঠিত উপনির্বাচনে ১৮% ভোটারের উপস্থিতির জবাব যেমন সরকারের কাছে নেই তেমনি স্বৈরাচারের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ারও ব্যাখ্যা নেই। নুরহোসেন দিবসে গনতন্ত্রকামী আওয়ামীলীগ গনতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে কিনা তার জবাব দিতে পারেনি। গনতন্ত্রের মুক্তির মিছিলে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগ সরকার রাঙ্গাদের ক্ষমা করলেও বাংলার সাধারন গনতন্ত্র পিপাসু জনগন এই রাঙ্গাদেরকে ক্ষমা করবেনা। সময় মতো যথাযথো জবাব রাঙ্গাদের পেতে হবে। ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে, নির্বাচনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় না করার প্রতিবাদ শুধু বিরোধী পক্ষই করছেনা; আওয়ামীলীগ সমর্থকরাও করছে। অথর্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সর্বশেষ বক্তব্য অরুচিকর তাই আলাপ করলামনা। শহীদ নুরহোসেনের আত্মা মু্ক্তি পাক, গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter