সর্বশেষ সংবাদ ইউএস ইলেকশন ২০২০। সর্বশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের ফলাফল                 সাংবাদিক খাশেগিকে নিয়ে                  পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর দায়ভার কার?                 'মুজিব বর্ষের শপথ-সড়ক করবো নিরাপদ' আমাদের করণীয়                 মুজিববর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ                 নিজের মতে পথ চলতে নিসচার মানা !                 যদি তুমি উন্নয়নশীল দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাও তাহলে নারীবাদী হও                 আইনের শাসন এবং অবাধ গনতন্ত্র আপনারা ক্ষমতায় না থাকলেও আপনাদেরকে ভবিষ্যতে সুরক্ষা দিবে                 ট্রাম্প করোনাক্রান্ত এবং অসংখ্য প্রশ্ন                 সমাজে গোষ্ঠী-স্বার্থ রক্ষাকারী রাজনীতির পূনরোত্থান বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী লক্ষ্যনীয় যা অযাচিত                 সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাস থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে দিনে গড়ে ৩০ হাজার জন করে                 বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা                 সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা একজন বেঈমান এবং অকৃতজ্ঞ!                 সমাজে ঐ শিশুটি কবে জন্মাবে যে বলবে মন্ত্রী মহোদয় ল্যাংটা ?                 মৌলবাদ ও সমাজতন্ত্র বনাম পুঁজিবাদ ও গনতন্ত্র-আমি যেভাবে দেখি                 করোনাভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুর মিছিলে বিশ্বের প্রথম ২০টি দেশ                  বাংলাদেশে রাজনীতির বর্তমান অবস্থা এবং উত্তরণের পথ                 সামরিক স্বৈরশাসনের সমাপ্তি! অত:পর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তাক্ত গনতন্ত্রের অনুশীলন শুরু!!                 "মাদক ফেলে এসো সবাই হাতে হাত ধরি মানবসেবায় শপথ করে নতুন জীবন গড়ি"                 প্রাণের খুলনা- ভাবনা ও স্বপ্ন                 বিশ্বে করোনা সংক্রমণ কমেতো নাই বরং ক্রমাগত বাড়ছে                 করোনাকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছু ভাবনা                 ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সততা নিয়ে এখনও কেউ প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেনা                 প্রকৃত শিক্ষা আমাদের প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে                 অভিশপ্ত আগস্ট                 ভ্যাকসিনই করোনা ভাইরাসের শেষ মহৌষধ নাও হতে পারে                 বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বর্তমান সরকার                 বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ                 আওয়ামীলীগের শেকড় অনেক গভীরে; আওয়ামীলীগ সরকারের শেকড় এখন টবে!!                 হত্যাকাণ্ড তা যেভাবেই হোক মানবতার বিপর্যয়                

Tuesday, October 27, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


যদি তুমি উন্নয়নশীল দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাও তাহলে নারীবাদী হও
মোঃ শফিকুল আলম :
সময় : 2020-10-12 11:23:45

সম্প্রতি বাংলাদেশে সিরিজ ধর্ষণের ঘটনা সকল সচেতন মহলকে বিচলিত করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের প্রকাশে সাধারন মানুষ আর যুক্তি মানছেননা। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারনে বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ধর্ষকের বিচার ব্যবস্থার বাইরে গুলি করে হত্যার কথা বলছেন। একটু বিবেচক মহল আবার ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবী করছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সরকারেরও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড! পৃথিবীর যেসমস্ত দেশে মৃত্যুদন্ডের বিধান নেই সেসব অধিকাংশ দেশে অপরাধের হার একেবারেই নিম্নে রয়েছে। কারন একটাই অপরাধ করে কেউ ছাড় পায়না। যা’হোক আমি কোনো বিতর্কে না গিয়ে চলোমান প্রেক্ষাপটে একটু ভিন্ন মাত্রায় নারীর ওপর বৈষম্য নিরোধে নারী এবং সমাজ সংস্কারক নারী-পুরুষের জাগরণের ওপর জোর দিতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কিছু তাত্বিক বিশ্লষণ করলাম।
বোরিস্ জনসন একজন ব্রিটিশ রাজনীতিক।একজন সমসাময়িক ইতিহাসবিদ।তিনি লন্ডন টেলিগ্রাফের একজন সাংবাদিক।তিনি লন্ডন সিটির সাবেক মেয়র।তিনি বৃটেনের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী।বিশেষ করে তিনি ব্রেক্সজিটের একজন অন্যতম প্রবক্তা।
জনাব বোরিস্ লিখেছেন, “মহিলাদের ওপর অবিচার এবং বৈষম্য বন্ধ করার এখন একটি উৎকৃষ্ট সময়।”
তাঁর অনুভূতির প্রকাশ আমি আমার ভাষায় বর্ননের চেষ্টা করছি।
যখন কোনো স্রোতস্বিনি নদীর ওপরে দেয়া বৃহৎ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়; তখন প্রথমবারেই অকস্মাত প্রচন্ড শব্দে ফেটে পড়েনা।প্রথমে অবশ্যই একটা ছোটো ছিদ্র তৈরী হবে।ছিদ্রাভিমুখে পানির একটা গোল্লা তৈরী হবে।তারপর একটি ফাটল স্পষ্টতর হবে।বাঁধের সমান্তরালে পানির ফেনিল আবরন তৈরী হবে।অত:পর পুরো বাঁধের কাঠামোটি ঠক্ ঠক্ করে কাঁপতে শুরু করবে।
বাঁধ-উপত্যকার নীচে দর্শনার্থীরা অবাক বিস্ময়ে হয়তো ভাবতে থাকে অবরুদ্ধ বাঁধ ভেঙ্গে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালন প্রচন্ড শক্তিধর পানির প্রবাহ পথিমধ্যে কি ঘটাতে যাচ্ছে!
মার্কিন উচ্চ আদালতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নোমিনি ব্রেট ক্যাভান্যুর নিয়োগ কনফার্ম করতে গিয়ে নারীবাদীদের সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ #MeToo আমরা দেখলাম।এটি একটি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্বের symptom ছিলো মাত্র।সামাজিক এই প্রপঁচ মূলত: আমাদের সকলকে আবেগপূর্ণ করে।আমরা অনিয়ন্ত্রিত রাগ অনুভব করি দশক ধরে, শতাব্দী ধরে অথবা সহাস্রাব্দী ধরে আমাদের প্রসন্নতা বা চলোমান অবিচারের কারনে।আমরা দেখতে পাই মহিলা-পুরুষের সম্মিলিত কন্ঠের ধ্বনি এবং তা’ পরিবর্তনের পক্ষে।সে পরিবর্তন মনোভাবের।সে পরিবর্তন নতুন এবং প্রগতিশীল অনুভূতির!
সুতরাং, এটি একটি নতুন আহ্বান তবে সবচেয়ে পুরাতন, সরল আহ্বান, কিন্তু সকল রাজনৈতিক ধারনাগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারনা - সকল মানুষ লিঙ্গ ভেদে নয় মানুষ হিসেবে সম্মান এবং সম অধিকার নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকবে।সমাজ তার গ্যারান্টি দিবে।আর হ্যাঁ, এরই মধ্যে কিছু ভীতিকর মানুষ বাঁধের ফাটল আবৃত রেখে বাঁধের প্রকৃত অবস্থা লুকোতে চায়, আবার কিছু মানুষ (পুরুষ/মহিলা) তারা পশ্চিমা কিন্তু সংরক্ষণশীল ভাবছে এই আহ্বান কি অর্থ বহন করে? দীর্ঘদিন চলে আসা সমাজের convention গুলোর কিকি পরিবর্তন হতে পারে? এটি কি চাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হচ্ছে? চাওয়ার শেষ কোথায়? তাদের ভবিষ্যত পুত্রদের ক্ষেত্রে কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি?
যারা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমোধিকারের আহ্বানে উদ্বিগ্ন এবং ভাবছেন যদি এরকমটি হয়ে যায় - হয়ে যাক্ বন্ধু। না হয় আপনার ধারানানুযায়ী পুরুষ লিঙ্গের ওপর একটু অবিচার হলো! আমি বলছি আপনার ঐ ধারনা মোড়কে ঢেকে দিন।আমাদের এখন প্রয়োজন মহিলাদের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভের বিষ্ফোরন।আমরা চাই এখন বাঁধ ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তিশালী পানির তোড়ে বিশ্বের সকল নারীর ওপর সকল প্রকার বৈষম্য এবং অবিচার ধুয়ে যাক্।
বিশ্বভূখন্ডে লক্ষ লক্ষ নারী পাচার হচ্ছে, যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হচ্ছে, ধর্ষনের শিকার হচ্ছে।আর সেই সমাজ পদ্ধতিগতভাবেই এই অনিয়ম এবং অবিচার ঘটতে দিচ্ছে; কারন এই সমাজের সিংহভাগ বা অনেকাংশেই পুরো রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হচ্ছে পুরুষ।বিশ কোটির ওপর নারী অমানবিক genital mutilation এর শিকার।এর মধ্যে সাত কোটি শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছরের নীচে তারা এই genital mutilation এর মতো বর্বরতা এবং নৃশংসতার শিকার হয়ে থাকে।এ নৃশংসতা হয়ে থাকে আবার ধর্মের নামে।সুতরাং নারীর পবিত্র ক্ষোভ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে পরিনত হোক এবং সকল নৃশংসতা ধুয়ে যাক্।বাঁধ ভাংতে দেয়া হোক।নারীদের ওপর অবিচার দূর হোক যা’ পৃথিবীর কিছু কিছু অংশে ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নারীশিক্ষা হারের দিকে তাকালে আমরা লজ্জিত হই।আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় কোনো কোনো দেশে পুরুষের শিক্ষার হার নারীদের থেকে ২৫%-৩০% বেশি।
অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলোতে এমনকি উচ্চ শিক্ষায়ও অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের থেকে নারীদের শিক্ষার হার বেশি।যদিও বহু ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।একই কাজে মহিলাদের থেকে পুরুষের মজুরী বেশি।
উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বে comparative analysis করলে হয়তো তেমন বৈসাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কিন্তু যে সমস্ত দেশ দারিদ্রক্লিষ্ট, যেখানে ব্যাপক শিশুমৃত্যুর হার, যেসব দেশ যুদ্ধবিদ্ধস্ত, জঙ্গী আক্রান্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত, মৌলবাদ আক্রান্ত সে সমস্ত দেশে সব চাইতে বৈষম্যের শিকার হয় নারী এবং শিশু এবং শিক্ষার ক্ষেত্রেও পুরুষ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
সুতরাং, আমি পুরোপুরি প্রনোদিত যে এই সমস্ত সমস্যা সমাধানে যদি একটি পলিসি নিতে হয় তা’ হবে প্রত্যেকটি নারী শিশুকে বাধ্যতামূলক এবং ফ্রি ১২ ক্লাস কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে হবে।নারী শিশুকে শিক্ষা দাও, সে অর্নীতিকে সমৃদ্ধ করবে। সে তখন শুধু মেয়ে শিশুকে নয় তার ছেলে শিশুকেও সমানভাবে শিক্ষিত করবে।
যদি তুমি উন্নয়নশীল দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাও তাহলে নারীবাদী হও। এবং তা করতে পারো নারীদের শিক্ষিত করে।

 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter