সর্বশেষ সংবাদ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বর্তমান সরকার                 বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ                 আওয়ামীলীগের শেকড় অনেক গভীরে; আওয়ামীলীগ সরকারের শেকড় এখন টবে!!                 হত্যাকাণ্ড তা যেভাবেই হোক মানবতার বিপর্যয়                 জাতীয় শোকের মাস আগস্ট এবং বর্তমান আওয়ামীলীগ                 করোনার গতি প্রকৃতি                 সজীব ওয়াজেদ জয় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ                  দীর্ঘ সময়ের জন্য বর্ডার বন্ধ রাখা যাবেনা - বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা                 দলের সরকার; সরকারের দল নয়!!                

Saturday, August 15, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


দীর্ঘ সময়ের জন্য বর্ডার বন্ধ রাখা যাবেনা - বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা
মোঃ শফিকুল আলম :
সময় : 2020-07-30 11:45:07

অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ডার বন্ধ রাখা স্থায়িত্ব পেতে পারেনা। প্রত্যেকটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ এবং মানানোর মধ্য দিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা যথার্থই বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন করতে সমর্থ্য হয়েছে। এভাবে সমগ্র পৃথিবী বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশ করোনা মুক্ত হতে পারবে; কিন্তু দীর্ঘ সময় তার মানুষদিগকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেনা। ইউরোপসহ কিছু দেশে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আবার কোয়ারেনটাইন, আবার ট্রাভেল রেসট্রিকশন। আলটিমেটলি অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন হয়তো করোনার থেকে অনাহারেই অধিক সংখ্যক মানুষ মৃত্যু বরন করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার একেবারে স্পষ্ট বার্তা সেই সমস্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া এবং বৃটেনের জন্যও সতর্কতা হচ্ছে যে তারা ২০২০ সালের পুরোটা, এমনকি তার পরেও বর্ডার বন্ধ রাখতে চায় যা’ বিশ্বের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। এমনকি অস্ট্রেলিয়া, বৃটেনের অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইউরোপে সেকেন্ড ওয়েভের কারনে এই সপ্তাহে স্পেন থেকে আসা বৃটেন তাদের নাগরিকদের ওপর বাধ্যতামূলক কোয়ারেনটাইন আরোপ করায় বরং বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়।

এয়ারলাইনসগুলো কোভিডের কারনে প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। সেকেন্ড ওয়েভ এবং সম্ভাব্য লকডাউনে যতোটা চলোমান রয়েছে তা-ও ভেঙ্গে পড়বে। এই অবস্থা আর অধিক সময়ের জন্য বলবৎ থাকতে পারেনা। এশিয়া এবং আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একেবারেই প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সকল সমালোচনা সত্বেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একদিকে করোনা মোকাবেলা করছেন এবং অপরদিকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু রেখেছেন। তাঁর ফিসকেল পলিসি (বাজেট) চমৎকারভাবে যেমন করোনা মোকাবেলায় অর্থের যোগানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে তেমনি অবকাঠামোতে ব্যয় বরাদ্দ রেখেও প্রাথমিক পর্যায়ে জব ক্রিয়েট করছেন; আবার অবকাঠামোর(স্বাস্থ্যখাত এবং শিক্ষাখাত) শেষ পর্যায়ে সুস্থ মানুষের শিক্ষা জীবন শেষেও এমপ্লয়মেন্ট হওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদে গতিশীল হবে। করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের এই পলিসি অনেক দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকলে বাংলাদেশ করোনা এবং বন্যা মোকাবেলা করে অর্থনীতিতে উন্নয়নের ধারা গতিশীল রাখতে সক্ষম হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার এমার্জেন্সী প্রোগ্রামের প্রধান মাইক রাইয়ান বলেন, “ আন্তর্জাতিক বর্ডার সীলড রাখা কোনো প্রয়োজনীয় বা টেকসই কৌশল হতে পারেনা।” “একটি একক দেশের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ডার বন্ধা রেখে সার্ভাইব করা অসম্ভব। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড খুলে দিতে হবে, লোকজনকে কাজ করতে হবে, ব্যবসায়-বানিজ্য শুরু করতে হবে।”

ডক্টর রাইয়ান আরও বলেন যে বরং করোনার মধ্যেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ শুরু করলে কি কি ঝুঁকি তৈরী হতে পারে তা’ আইডেন্টিফাই করে ঝুঁকি নিরসনের বা নিম্ন মাত্রায় রাখার কৌশল গ্রহন করতে হবে। এবং প্রত্যেকটি দেশকে অভ্যন্তরীণভাবে সংক্রমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের প্রধান টেডরোজ একমত প্রকাশ করে বলেন,” যেসব দেশ অভ্যন্তরীণভাবে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর রেখেছে সেখানে সংক্রমন নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যেখানে অনুসরন করা হচ্ছেনা সেখানে সংক্রমন বেড়ে যাচ্ছ।”

বর্ডার ক্লোজার মেইজারও স্থান এবং দেশ ভেদে কার্যকারিতা পায়। যেমন একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রে একটি ইনফেকশন কেইসও মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে। আবার ব্যাপকভাবে সংক্রমিত একটি দেশ বর্ডার ক্লোজ করেও কোনো পজিটিভ ফলাফল পাবেনা।

গত শনিবার বোরিস জনসন স্পেন প্রত্যাগতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিলে কেওয়াজ তৈরী হয়। প্রায় ৬০০,০০০ বৃটিশ হলিডে মেকার এই আদেশে এ্যাফেক্টেড এবং আরও অনেকে সামার হলিডেতে যাওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে যাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

এয়ারলাইনস এবং ট্রাভেল কোম্পানীগুলোর শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছে। বৃটিশ এয়ার ওয়েজ এবং ইজিজেটের শেয়ার ৮% হ্রাস পেয়েছে। লুফথানসার ৫% এবং ট্যুর অপারেটর টুই’র শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে ১১%। টুই এবং এয়ার লাইন জেট-২ তারা উভয়েই স্পেনের মেইন ল্যান্ডে প্যাকেজ হলিডে, ফ্লাইটস এবং সব ধরনের বুকিংস ক্যানসেল করেছে। বৃটিশ এয়ার ওয়েজ এবং ইজি জেট-২ কারেন্ট সিডিইউলের বাইরে কোনো ফ্লাইট চালু করছেনা।

বাজেট কেরিয়ার রাইয়ানায়ার প্যানডেমিকের কারনে তাদের ক্ষতির যে গ্রাফিক চিত্র তুলে ধরেছে সেখানে তাদের ক্ষতির পরিমান দেখানো হয়েছে জুন কোয়ার্টারে ৩০৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার। একই সময়ে গত বছর তাদের মুনাফার পরিমান ছিলো ২৪৩ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লিয়ারি প্যানডেমিক মোকাবেলায় বৃটিশ সরকারের প্যানিক তৈরী করা এবং অত্যন্ত খারাপভাবে ওভার রিএ্যাকশন করাকে এজন্য দায়ী করেছেন। এই বাজেট কেরিয়ারের শেয়ারের মূল্যহ্রাস ঘটেছে ৩.৯%।

বৃটেন থেকে স্পেনে বছরে ১৮ মিলিয়ন মানুষ ভ্রমন করে থাকে কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভের কারনে লন্ডন বর্ডার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করে। স্পেনের ইনফেকশন রেট প্রতি ১০০,০০০ জনে ৪০ যা’ বৃটেন এবং ফ্রান্সের দ্বিগুন। ইউরোপের পর্তুগাল এবং সুইডেনের সংক্রমনের রেট স্পেনের সমান।

স্প্যানিস স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরন্চ গনজালেজ বলেন মহামারী প্রকৃতপক্ষে নিয়ন্ত্রিত; কিন্তু ক্যাটালোনিয়া বাদে। ক্যাটালোনিয়াতে গত সপ্তাহে সংক্রমনের পরিমান ছিলো ৫,৪৮৭ যা’ এর আগের সপ্তাহে ছিলো ৩,৪৮৫ জন।

ক্যাটালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কুইম টোরা সোমবারে বললেন, “আমরা গ্রীষ্মের গুরুত্বপূর্ণ ১০ দিন অতিবাহিত করছি।”

ড: রাইয়ান বলেন, “ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মূল্যায়নে স্পেনে সংক্রমন থাকলেও প্রথম দিকের কাছাকাছিও নেই। স্পেন ক্লাস্টার দমনে এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যে গ্রহন করেনি।”

জার্মান হেলথ মিনিস্টার জেন বলেন যারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা দেশ থেকে জার্মানে প্রবেশ করবে তাদের বাধ্যতামূলক টেস্টিং এর আওতায় যেতে হবে। জার্মানির প্রতিদিনের গননায় সংক্রমন আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। বেভারিয়ান ফার্মের ৫০০ জনকে টেস্ট করা হলে ১৭০ জনের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাদেরকে ফার্মের প্রিমাইসেসএ কোয়ারেনটাইন করা হয়। গুটারসলো শহরের একটি এ্যাবেটর (কষাইখানা) হাউজ গত মাসে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অবশ্য উল্লেখিত দু’টি জায়গাতেই মাইগ্রান্ট ওয়ার্কাররা কাজ করে থাকে এবং তাদের মাধ্যমে সংক্রমন ছড়িয়েছে।

একই ভাবে বৃটেনে সংক্রমনের মিশ্র চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে কিছু বড় বড় শহরে টাইট রেসট্রিকশন অব্যাহত রয়েছে। সোমবারে বৃটেনে মৃতের সংখ্যা ছিলো ৭ যা’ বৃটেনে এযাবৎকালে সর্বনিম্ন।

বেলজিয়ামে পূনরায় সোস্যাল গ্যাদারিং এবং শপিং এ রেসট্রিকশন দেয়া হয়েছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী টোটাল লকডাউনের চিন্তা মাথায় রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।

এ হচ্ছে মোটামুটি ইউরোপের চিত্র। বিজ্ঞানীদের মতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা নেই ভ্যাকসিন ব্যতিরেকে। ভ্যাকসিন এবছরে তৈরী হচ্ছে সত্য; ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো ভ্যাকসিন ব্যবহারের আওতায় এবছর আসতে পারবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সে কারনেই অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিষ্ঠিত যে বিধি অনুসরন করে করোনা নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় তা’ অনুসরন করে একই সংগে অর্থনীতি চালু রাখতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter